গ'লাচি'পায় বিএনপির দুই গ্রু'পের সং'ঘর্ষ,আ'হত অ'র্ধশ'তাধিক
গ'লাচি'পায় বিএনপির দুই গ্রু'পের সং'ঘর্ষ,আ'হত অ'র্ধশ'তাধিক
সঞ্জীব কুমার সাহা, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গলাচিপায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক আহত এবং দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পৌর এলাকার সদর রোডে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকাসহ গলাচিপা উপজেলায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
জানাগেছে , মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি পৌর এলাকার বিএনপির অফিস থেকে শুরু হয়ে সিনেমা হল রোডে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নির্ধারিত স্থান উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাসান মামুন গ্রুপের নেতা কর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান করেছিল। পরে দুই গ্রুপ পাশাপাশি হলে দুই পক্ষই ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে শ্লোগান দিলে এসময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর পর গোলাম মোস্তফা গ্রুপের নেতা কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরের সম্মুখে আধা ঘন্টা অবস্থান নেয়। পরে তারা র্যালি নিয়ে স্থানীয় চৌরাস্তা হয়ে সদর রোডের দিকে যায়। অপরদিকে হাসান মামুনের গ্রুপের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে আরেকটি র্যালি বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে কালিবাড়ি রোডে আসলে বটতলার কাছে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে।
এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে স্থানীয় হাবিব রেস্টুরেন্ট ও সামসুর দধিঘর ভাংচুর হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে বিএনপির দুই গ্রুপের অর্ধশত আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় হাসান মামুনের গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মিজানুর রহমানের বাসায়
এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গলাচিপায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিবাদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে। হাসান মামুনের গ্রুপ তিনদিন আগে থেকেই বিভিন্ন হুমকি ধামকির ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। বিবাদমান বিএনপির দুই গ্রুপের অপর পক্ষের সাথে জোট হয়ে গণঅধিকার, বিএনপি (গোলাম মস্তফা গ্রুপের) নেতাকর্মীরাও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা করার অভিযোগ করেন। এসময় হাসান মামুন গ্রুপের অনেকেই গুরুতর আহত হয়। এদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও পটুয়াখালী প্রেরণ করা হয়েছে। আহতরা হলেন, পানপট্টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল মৃধা, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি কালা মিয়া, পানপট্টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হেলাল। এদেরকে গুরতর আহত অবস্থায় পটুয়াখালী ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবার রুবেল, সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের রাজ্জাক, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলম, বাচ্চু মিয়া, আমখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সোলায়মান, শ্রমিক দলের সেলিম আকন, সেলিম সিকদার, আনসার হাওলাদার, জাকির মোল্লা, গোলখালী ইউনিয়নের বেল্লাল হাওলাদার, পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব মিয়া, পৌরসভা মৎস্যজীবী দলের বাচ্চু মৃধা, রতনদী তালতলী ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি মুসা, মহিলা দলের নেত্রী সাহেলা সিকদার ও সেলিনা বেগমসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতদের সবার নাম এখনো আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। এদিকে সংঘর্ষে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা গ্রুপের ১৩ জন আহতের খবরটি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির। তিনি বলেন, হাসান মামুন গ্রুপের লোকজন আগে থেকেই সংঘর্ষ সৃষ্টির পায়তারা করে আসছিল। গতকাল সোমবার রাতে
হরিদেবপুর শ্রমিক দলের অফিস ভাংচুর করে, বিভিন্ন জায়গায় বাঁশের লাঠি তৈরি করে রাখে। আজও তারা সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে। এ সংঘর্ষে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. ইমরান, চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আহসান ইমরান, ডাকুয়ার বিএনপি নেতা সাহাবুদ্দিন খান, চিকনিকান্দি ইউনিয়ন
ছাত্রদল কর্মী হাসিবুর রহমান, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী তসলিম খান, চিকনিকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আরিফ, ডাকুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাসান গাজী, পৌর এলাকার ছাত্রদল কর্মী মারুফ, গোলখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা সলেমান খান, বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাহাতাব, পৌর ছাত্রদল নেতা ফয়সাল, পৌর যুবদল নেতা সরোয়ার মাতব্বর। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের পটুয়াখালী ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুই পক্ষের কর্মসূচি ছিলো। এ উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে আমরা মাঝখানে থেকে তাদেরকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলাম। পরে আবার উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সংঘর্ষ বাধে।
তখন পুলিশ, র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। সঞ্জীব কুমার সাহা
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স